প্রকাশ্যে তীরনই নদীর পাড় কেটে বিক্রি, হুমকির মুখে আবাদি জমি
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার তীরনই নদীর পাড়ের মাটি অবৈধভাবে কেটে বিক্রি করতেছে প্রভাবশালীরা। এতে চরম হুমকির মুখে পড়েছে আশপাশের আবাদি জমি ও তীরনই নদীর ও বাঁধ সেতু। এসব মাটি রাস্তার কাজে বিক্রি করা হচ্ছে চড়া দামে। সোমবার সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, তীরন্নাই নদীর বাঁধ থেকে ১০০ -১৫০ গজ দূরে নদীপাড়ের মাটি ভেকু দিয়ে কেটে ট্রাক্টরে ভর্তি করা হচ্ছে।
তড়িঘড়ি করে মাটি গুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছে নদীর আশে পাশের খোলা মাঠে।সেখানে মাটির স্তুপ করে বিক্রি করা হচ্ছে রাস্তার কাজেসহ বিভিন্ন ইট ভাটায় ও স্থাপনার কাজের জন্য।
এ সময় ট্রাক্টর চালক নাম বলতে অনিচ্ছুক তিনি জানান, উপজেলার ২ নং চাড়োল ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের মধুপুর গ্রামের মাটি ব্যাবসায়ী আমিনুল ইসলাম পিতা: নেন মিয়ার ছেলের নির্দেশে মাটি কাটা হচ্ছে। এসব মাটি যে সব রাস্তার কাজ চলতেছে ও ইট ভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। আর এক ট্রাক্টর চালক নাম বলতে অনিচ্ছুক তিনি বলেন এটা আমাদের অন্যায় হয়েছে।আমরা পেটের দায়ে কাজ করি সারা দিন কাজ করে ৬০০ শ টাকা হাজিরা পায়।
বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে (২০১০) বলা হয়েছে, বিক্রির উদ্দেশ্যে বালু বা মাটি উত্তোলনের ফলে কোনো নদীর তীর ভাঙনের শিকার হলে সে ক্ষেত্রে বালু বা মাটি তোলা যাবে না। অন্যদিকে, সেতু, কালভার্ট, বাঁধ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ।
স্থানীয় লোকজন বলেন, ওই স্থানে নদীর পাড় কেটে মাটি তোলা হলে সামান্য বন্যায় বাঁধের সেতু ও আশেপাশের ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়বে। এ ছাড়া আশপাশের আবাদি জমিতে নদীর পানি অনায়াসে ঢুকে ফসল নষ্ট হবে।
নাম প্রকাশ্যে বলতে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, ভেকু দিয়ে মাটি কেটে ভর্তি করে ট্রাক্টরগুলো দিন–রাত কাঁচা রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফলে রাস্তায় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এখন যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
স্থানীয় এক কৃষক বলেন, ‘নদীর বান্দন (বাঁধা) হয়েছে নদীর পাড়। সেই পাড় কেটে রাস্তার কাজত বেঁচেছে তা–ও কেউ কিছু করবা পারছেনি হামা আর কি করমো । সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে নদী খনন করলে। ফের জাওনিয়া বাজারে সাবাজপুর গ্ৰামের আসতে সেইঠেও একটা সুইচ গেট বানাল কি লাভ হইল । আগামীবার বান (বন্যা) হইলে নদীর পানি যায়ে জমিত ঢুকপে। তখন আবাদ ফের নষ্ট হয়ে যাবে । হামার কপালোত দুঃখ আছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অঞ্জন কুমার বলেন, ‘নদীর পাড় যারা কাটছে, খোঁজ নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই সেখানে এসিল্যান্ডকে পাঠানো হবে।স্থানীয়দের দাবি প্রভাবশালী যেই হোক তাকে খুঁজে বের করতে হবে এবং আইনের আওতায় আনতে হবে।















