০৬:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

বিশ্বের ১২ দেশের ওলামা-মাশায়েখের মাইজভাণ্ডার শরীফ জিয়ারত

ডেস্ক রিপোর্ট

সুফিবাদের মূল শিক্ষা মানুষের কল্যাণ, শান্তি, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার চর্চা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওলামা-মাশায়েখের পারস্পরিক যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে এ বার্তা আরও বিস্তৃত হবে বলে মন্তব্য করেছেন পার্লামেন্ট অব ওয়ার্ল্ড সুফিজের প্রেসিডেন্ট ও মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন হযরত শাহসুফি সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল মাইজভাণ্ডারী।

সোমবার (২৪ আগস্ট) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মাইজভাণ্ডার শরীফে বিশ্বের ১২টি দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামা-মাশায়েখের জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ ছাড়াও সৌদি আরব, তুরস্ক, মিশর, অস্ট্রেলিয়া, জর্ডান, লেবানন, কানাডা, ভারত, শ্রীলঙ্কা, সোমালিয়া ও ইরান থেকে আগত ওলামা-মাশায়েখরা এ সফরে অংশ নেন। সকাল ১১টার দিকে তারা মাইজভাণ্ডার শরীফে পৌঁছান। পরে হযরত শাহসুফি সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারীর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ জিয়ারত করেন।

এ সময় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা গাউছুল আজম হযরত মাওলানা আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী, সৈয়দ মাওলানা গোলামুর রহমান মাইজভাণ্ডারী, শাহসূফী সৈয়দ আবুল বশর মাইজভাণ্ডারী ও শাহসূফী সৈয়দ মঈনউদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারীর মাজার জিয়ারত করেন।জিয়ারত শেষে প্রতিনিধি দল রহমানিয়া মঈনিয়া আলিয়া মাদরাসা পরিদর্শন করেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সুফিবাদ, আধ্যাত্মিকতা, নৈতিকতা ও মানবকল্যাণসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত আলেম-মাশায়েখরা।

পরে প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের ব্রিফ করা হয়। এতে মাইজভাণ্ডার শরীফের আধ্যাত্মিক পরিবেশ, সুফিবাদ এবং মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন তারা। বিভিন্ন দেশের ওলামা-মাশায়েখের এ সফর পারস্পরিক জ্ঞান ও আধ্যাত্মিক ভাববিনিময়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরে সুফিবাদের শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা উল্লেখ করেন।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) প্রসঙ্গে ওলামা-মাশায়েখরা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা, শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সমাজ থেকে বিভেদ, হিংসা ও উগ্রতা পরিহারের আহ্বান জানান তারা। নবীজির শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজজীবনে ধারণ করে মানবকল্যাণে কাজ করার ওপরও গুরুত্ব দেন বক্তারা।সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী বলেন, বর্তমান বিশ্বে বিভেদ, হিংসা ও উগ্রতার পরিবর্তে শান্তি, মানবিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ প্রতিষ্ঠা জরুরি। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর আদর্শ অনুসরণের মধ্য দিয়ে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আলেম-মাশায়েখের এ ধরনের মতবিনিময় শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সফরকালে ওলামা-মাশায়েখরা মাইজভাণ্ডার শরীফের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, সুফিবাদী দর্শন এবং মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত হন। তাদের এ সফরকে আন্তর্জাতিক পরিসরে মাইজভাণ্ডারী সুফিবাদের ভাবধারা ও শান্তি-সম্প্রীতির বার্তা বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

আপডেট: ০২:৩৫:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

বিশ্বের ১২ দেশের ওলামা-মাশায়েখের মাইজভাণ্ডার শরীফ জিয়ারত

আপডেট: ০২:৩৫:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

সুফিবাদের মূল শিক্ষা মানুষের কল্যাণ, শান্তি, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার চর্চা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওলামা-মাশায়েখের পারস্পরিক যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে এ বার্তা আরও বিস্তৃত হবে বলে মন্তব্য করেছেন পার্লামেন্ট অব ওয়ার্ল্ড সুফিজের প্রেসিডেন্ট ও মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন হযরত শাহসুফি সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল মাইজভাণ্ডারী।

সোমবার (২৪ আগস্ট) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মাইজভাণ্ডার শরীফে বিশ্বের ১২টি দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামা-মাশায়েখের জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ ছাড়াও সৌদি আরব, তুরস্ক, মিশর, অস্ট্রেলিয়া, জর্ডান, লেবানন, কানাডা, ভারত, শ্রীলঙ্কা, সোমালিয়া ও ইরান থেকে আগত ওলামা-মাশায়েখরা এ সফরে অংশ নেন। সকাল ১১টার দিকে তারা মাইজভাণ্ডার শরীফে পৌঁছান। পরে হযরত শাহসুফি সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারীর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ জিয়ারত করেন।

এ সময় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা গাউছুল আজম হযরত মাওলানা আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী, সৈয়দ মাওলানা গোলামুর রহমান মাইজভাণ্ডারী, শাহসূফী সৈয়দ আবুল বশর মাইজভাণ্ডারী ও শাহসূফী সৈয়দ মঈনউদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারীর মাজার জিয়ারত করেন।জিয়ারত শেষে প্রতিনিধি দল রহমানিয়া মঈনিয়া আলিয়া মাদরাসা পরিদর্শন করেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সুফিবাদ, আধ্যাত্মিকতা, নৈতিকতা ও মানবকল্যাণসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত আলেম-মাশায়েখরা।

পরে প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের ব্রিফ করা হয়। এতে মাইজভাণ্ডার শরীফের আধ্যাত্মিক পরিবেশ, সুফিবাদ এবং মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন তারা। বিভিন্ন দেশের ওলামা-মাশায়েখের এ সফর পারস্পরিক জ্ঞান ও আধ্যাত্মিক ভাববিনিময়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরে সুফিবাদের শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা উল্লেখ করেন।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) প্রসঙ্গে ওলামা-মাশায়েখরা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা, শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সমাজ থেকে বিভেদ, হিংসা ও উগ্রতা পরিহারের আহ্বান জানান তারা। নবীজির শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজজীবনে ধারণ করে মানবকল্যাণে কাজ করার ওপরও গুরুত্ব দেন বক্তারা।সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী বলেন, বর্তমান বিশ্বে বিভেদ, হিংসা ও উগ্রতার পরিবর্তে শান্তি, মানবিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ প্রতিষ্ঠা জরুরি। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর আদর্শ অনুসরণের মধ্য দিয়ে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আলেম-মাশায়েখের এ ধরনের মতবিনিময় শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সফরকালে ওলামা-মাশায়েখরা মাইজভাণ্ডার শরীফের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, সুফিবাদী দর্শন এবং মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত হন। তাদের এ সফরকে আন্তর্জাতিক পরিসরে মাইজভাণ্ডারী সুফিবাদের ভাবধারা ও শান্তি-সম্প্রীতির বার্তা বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।