০৪:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

বিশ্বজয়ের দৌড়ে কি হারিয়ে যাচ্ছে বিটিএসের এর কে-পপ পরিচয়?

অনলাইন ডেস্ক

দীর্ঘ বিরতির পর আবার এক মঞ্চে সাতজন। সিউলের ঐতিহাসিক রাজপ্রাসাদের সামনে আলো-ঝলমলে মঞ্চে দাঁড়িয়ে জে-হোপ ঘোষণা দিলেন, “বিটিএস ২.০ এখনই শুরু হচ্ছে।” মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়েন হাজারো ভক্ত। অনলাইনে সেই এক ঘণ্টার শো দেখেছেন ১ কোটি ৮০ লাখেরও বেশি মানুষ। কিন্তু ফিরে আসার এই জাঁকজমকের আড়ালেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক-বিশ্বজয়ের পথে হাঁটতে গিয়ে কি বিটিএস তাদের শিকড় ভুলে যাচ্ছে?

তিন বছরের সামরিক দায়িত্ব ও একক সংগীতচর্চার পর আরএম, সুগা, জিন, জিমিন, ভি, জাংকুক ও জে-হোপ আবার একসঙ্গে ফিরেছেন তাদের নতুন অ্যালবাম “আরিরাং” নিয়ে। অ্যালবামের নাম কোরিয়ার বিখ্যাত লোকগান থেকে নেওয়া হলেও এর সাউন্ডে রয়েছে হিপ-হপ, জার্সি ক্লাব ও আন্তর্জাতিক পপের শক্তিশালী প্রভাব।কিছু ভক্তের মতে, এই অ্যালবামে পুরনো বিটিএস-এর সামাজিক সচেতনতামূলক র‍্যাপ ও পরীক্ষামূলক ধারা ফিরে এসেছে। তবে অন্যদের অভিযোগ, অতিরিক্ত ইংরেজি গান ও বিদেশি প্রযোজকদের উপস্থিতি বিটিএস-কে ধীরে ধীরে “গ্লোবাল পপ ব্র্যান্ডে” পরিণত করছে, যেখানে তাদের স্বতন্ত্র কোরিয়ান আবেগ হারিয়ে যাচ্ছে।সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ডকুমেন্টারিও বিতর্ক বাড়িয়েছে। সেখানে দেখা যায়, অ্যালবামের দিকনির্দেশনা নিয়ে সদস্যদের সঙ্গে তাদের এজেন্সি হাইবি-এর মতবিরোধ তৈরি হয়। জিমিন এক পর্যায়ে বলেন, “এটা ঠিক হচ্ছে কি না, বুঝতে পারছি না।” অন্যদিকে হাইবি-এর প্রধান ব্যাং সি-হিউক বিটিএস-কে মনে করিয়ে দেন, তারা শুধু শিল্পী নন, বরং “কোরিয়ার গ্লোবাল আইকন”।২০১৩ সালে ছোট একটি কোম্পানি থেকে যাত্রা শুরু করা বিটিএস আজ বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যান্ডগুলোর একটি। “ডার্ক এন্ড ওয়াইল্ড” এর যুগে তারা তরুণদের হতাশা, স্বপ্ন ও সংগ্রামের কথা বলতেন। পরে তাদের “লাভ ইউরসেলফ” সিরিজ আত্মমর্যাদা ও মানসিক স্বাস্থ্যের বার্তা দিয়ে বিশ্বজুড়ে তরুণদের হৃদয় জয় করে।

এখন “আরিরাং” দিয়ে তারা আবার নতুন পথে হাঁটছে। কেউ এটিকে সাহসী শিল্পীসুলভ পরিবর্তন বলছেন, কেউ আবার পরিচয় সংকটের ইঙ্গিত দেখছেন।

তবে বিতর্ক যাই থাকুক, এতে বিটিএস-এর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। তাদের নতুন বিশ্বভ্রমণে পাঁচ মহাদেশে ৮৫টি কনসার্ট হবে, যার প্রথম তিনটি শো এর টিকিট মুহূর্তেই বিক্রি শেষ হয়ে গেছে।

সমালোচকদের মতে, বিটিএস ইতোমধ্যেই কে-পপ-এর ইতিহাস বদলে দিয়েছে। এখন প্রশ্ন একটাই-বিশ্ব জয়ের পর তাদের পরবর্তী গন্তব্য কোথায়?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

আপডেট: ০৬:২১:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

বিশ্বজয়ের দৌড়ে কি হারিয়ে যাচ্ছে বিটিএসের এর কে-পপ পরিচয়?

আপডেট: ০৬:২১:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

দীর্ঘ বিরতির পর আবার এক মঞ্চে সাতজন। সিউলের ঐতিহাসিক রাজপ্রাসাদের সামনে আলো-ঝলমলে মঞ্চে দাঁড়িয়ে জে-হোপ ঘোষণা দিলেন, “বিটিএস ২.০ এখনই শুরু হচ্ছে।” মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়েন হাজারো ভক্ত। অনলাইনে সেই এক ঘণ্টার শো দেখেছেন ১ কোটি ৮০ লাখেরও বেশি মানুষ। কিন্তু ফিরে আসার এই জাঁকজমকের আড়ালেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক-বিশ্বজয়ের পথে হাঁটতে গিয়ে কি বিটিএস তাদের শিকড় ভুলে যাচ্ছে?

তিন বছরের সামরিক দায়িত্ব ও একক সংগীতচর্চার পর আরএম, সুগা, জিন, জিমিন, ভি, জাংকুক ও জে-হোপ আবার একসঙ্গে ফিরেছেন তাদের নতুন অ্যালবাম “আরিরাং” নিয়ে। অ্যালবামের নাম কোরিয়ার বিখ্যাত লোকগান থেকে নেওয়া হলেও এর সাউন্ডে রয়েছে হিপ-হপ, জার্সি ক্লাব ও আন্তর্জাতিক পপের শক্তিশালী প্রভাব।কিছু ভক্তের মতে, এই অ্যালবামে পুরনো বিটিএস-এর সামাজিক সচেতনতামূলক র‍্যাপ ও পরীক্ষামূলক ধারা ফিরে এসেছে। তবে অন্যদের অভিযোগ, অতিরিক্ত ইংরেজি গান ও বিদেশি প্রযোজকদের উপস্থিতি বিটিএস-কে ধীরে ধীরে “গ্লোবাল পপ ব্র্যান্ডে” পরিণত করছে, যেখানে তাদের স্বতন্ত্র কোরিয়ান আবেগ হারিয়ে যাচ্ছে।সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ডকুমেন্টারিও বিতর্ক বাড়িয়েছে। সেখানে দেখা যায়, অ্যালবামের দিকনির্দেশনা নিয়ে সদস্যদের সঙ্গে তাদের এজেন্সি হাইবি-এর মতবিরোধ তৈরি হয়। জিমিন এক পর্যায়ে বলেন, “এটা ঠিক হচ্ছে কি না, বুঝতে পারছি না।” অন্যদিকে হাইবি-এর প্রধান ব্যাং সি-হিউক বিটিএস-কে মনে করিয়ে দেন, তারা শুধু শিল্পী নন, বরং “কোরিয়ার গ্লোবাল আইকন”।২০১৩ সালে ছোট একটি কোম্পানি থেকে যাত্রা শুরু করা বিটিএস আজ বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যান্ডগুলোর একটি। “ডার্ক এন্ড ওয়াইল্ড” এর যুগে তারা তরুণদের হতাশা, স্বপ্ন ও সংগ্রামের কথা বলতেন। পরে তাদের “লাভ ইউরসেলফ” সিরিজ আত্মমর্যাদা ও মানসিক স্বাস্থ্যের বার্তা দিয়ে বিশ্বজুড়ে তরুণদের হৃদয় জয় করে।

এখন “আরিরাং” দিয়ে তারা আবার নতুন পথে হাঁটছে। কেউ এটিকে সাহসী শিল্পীসুলভ পরিবর্তন বলছেন, কেউ আবার পরিচয় সংকটের ইঙ্গিত দেখছেন।

তবে বিতর্ক যাই থাকুক, এতে বিটিএস-এর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। তাদের নতুন বিশ্বভ্রমণে পাঁচ মহাদেশে ৮৫টি কনসার্ট হবে, যার প্রথম তিনটি শো এর টিকিট মুহূর্তেই বিক্রি শেষ হয়ে গেছে।

সমালোচকদের মতে, বিটিএস ইতোমধ্যেই কে-পপ-এর ইতিহাস বদলে দিয়েছে। এখন প্রশ্ন একটাই-বিশ্ব জয়ের পর তাদের পরবর্তী গন্তব্য কোথায়?